রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
সহকর্মী একজন নারী এসিল্যান্ডকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কুড়িগ্রামের চররাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত চক্রবর্ত্তীকে শাস্তি হিসেবে লঘুদণ্ড ‘তিরস্কার’ করা হয়েছে। তবে এটাকে শাস্তি হিসেবে মানতে নারাজ অধিকারকর্মীরা
গত ১৩ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ শাস্তির কথা জানানো হয়।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, একজন নারী সহকর্মীকে ইউএনও‘র মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে যৌন হয়রানির মতো অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে কোনো শাস্তি না দিয়ে কেবল তিরস্কার করা গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে ওই ইউএনও‘কে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কুড়িগ্রামের চররাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত চক্রবর্ত্তী। গত ২০২১ সালের ২৫ জুলাই থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তার অধীন কর্মরত একজন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে অশোভন আচরণ করা, তার সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে অশোভন কথোপকথন, তার স্বামী যেন বদলি হয়ে নীলফামারী জেলায় না আসেন সে বিষয়ে চাপ প্রয়োগসহ তার বাচ্চা যেন রংপুরে থাকে, তিনি স্টেশনে থেকে চাকরি করেন সে বিষয়ে চাপ প্রয়োগ, তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও বডি স্প্রে কিনে দেওয়া, রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন কথাবার্তা বলা, ফোন দিয়ে ভারসাম্যহীন ও অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলা, রাত ৮টা থেকে ৯টার সময় অফিসে কোনো কাজ না থাকলেও অফিসে বসিয়ে রাখা, তাকে মাস্ক পরে তার সামনে বসতে নিষেধ করা, বন্ধের দিনে ফোন ওয়েটিংয়ে থাকা নিয়ে চাপ প্রয়োগ করার মতো শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ এবং একজন নারী সহকর্মীর সঙ্গে খুবই অশোভন আচরণ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় মামলা রুজু করে কৈফিয়ত তলব করা হয় এবং একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি-না তা জানতে চাওয়া হয়।